২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। পেশাজীবীদের কাছে দিবসটি আনন্দময় দিন। সারা পৃথিবী দিবসটি উদযাপন করে অতি গুরুত্বের সাথে। এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism” অথবা আমরা বলতে "পর্যটন বিনির্মাণে ডিজিটাল এজেন্ডা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা"।
এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের বিশেষ দিকগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন কীভাবে পরিচালনগত দক্ষতা বাড়াতে, ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করতে এবং একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক ও টেকসই বৈশ্বিক পর্যটন খাতকে চালিত করতে পারে, তার অন্বেষণ ও যথাযথ প্রয়োগ। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার পর্যটন শিল্পে ব্যবহার এখন সময়উপযোগী।
মানুষ আধুনিক সভ্যতায় আসতে পেরেছে তিনটি শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে। প্রথমটি বাষ্পীয় ইঞ্জিন (১৭৮৪) আবিষ্কারের মাধ্যমে, দ্বিতীয়টি বিদ্যুৎ (১৮৭০) আবিষ্কারের মাধ্যমে, তৃতীয়টি ইন্টারনেট (১৯৬৯) আবিষ্কারের মাধ্যমে।
তিনটি বিপ্লবের মাধ্যমে মানব সভ্যতা আধুনিকায়নে সুযোগ পেয়েছে। আমরা নতুন এক শিল্পবিপ্লবের যুগে পা রাখছি। সেটা হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তির বিপ্লব বা ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব। ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে পৃথিবী পাবে নতুন রূপ ও যোগ হবে নতুন মাত্রা। আগামী দিনের বিশ্ব পর্যটন ও এভিয়েশনকে সমৃদ্ধ করবে তথ্য ও প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
প্রথমেই ডিজিটাল বা তথ্য ও প্রযুক্তির বিপ্লবের রূপরেখা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও সকল ক্ষেত্রেই তথ্য ও প্রযুক্তির টেকসই উন্নয়ন হবে ডিজিটাল বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য।
যেসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বিপ্লবের কাজকে গতিশীল করা যাবে সেগুলো হচ্ছে- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই- লানিং, রোবোটিকস ও অটোমেশন, থ্রি ডি প্রিন্টিং, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, জিন প্রযুক্তি, কম্পিউটার ক্লাউডিং, ই-বিজনেস এবং ই-ট্যুরিজম ইত্যাদি।
প্রযুক্তি বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে নতুন নতুন কাজের সৃষ্টি, কারিগরি পেশার চাহিদা বৃদ্ধি, শিল্প ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা, অটোমেশনের প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাস,উৎপাদন শিল্পে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে বড় পরিবর্তন, বিশেষায়িত পেশার চাহিদা বৃদ্ধি, সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
পর্যটন শিল্পেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। উড়োজাহাজের আবিষ্কার বিশ্ব পর্যটনকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছিল। ১৯৫০ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২৫ মিলিয়ন। তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার এখন আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ১২০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
দিন দিন ই-ট্যুরিজমের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্যুরিজমের সাথে জড়িত খাতগুলো যেমন- এয়ারলাইনস, এয়ারপোর্ট, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, থিম পারক, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, জিডিএস কোম্পানিগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে।
এয়ারলাইনসগুলো তাদের বুকিং, ইসু, রি-ইসু, রিফান্ড এর মত বিষয়গুলো Computerized Reservation Systems and Global Distribution Systems গুলোর মাধ্যমে পরিচালনা করছে।
মার্কেটিং এর জন্য ব্যবহার করছে ই-প্লাটফর্ম। হোটেল পরিচালনা ও রিজার্ভেশনের জন্য ব্যবহার করছে Property Management System ও Online Reservation System ট্যুরিজমের বিভিন্ন সেবা ও রিজার্ভেশনের জন্য আরো ব্যবহার করছে অনলাইন ট্রাভেল প্লাটফর্ম।
পর্যটন বিষয়ক সেবা ও তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন অনলাইন ভিক্তিক মাধ্যম যেমন- ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল, অনলাইন ট্রাভেল গ্রুপ, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর থেকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই পর্যটকরা প্রযুক্তি মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে তাদের ট্যুর বুকিং থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয়গুলো সম্পন্ন করে থাকেন।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে ডিজিটালাইজেশনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দেশের ট্রাডিশনাল ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটরের পাশাপাশি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ট্যুরিজম ব্যান্ডিং, ডেস্টিনেশন ব্যান্ডিং, পণ্য ও সেবার বিপণন, ট্যুরিজম ইনফরমেশন প্রচার ও প্রসার সহজতর হয়েছে।
ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে অনলাইন ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি গুলো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। গ্রাহকেরা ঘরে বসে এয়ার টিকিট, ট্যুর বুকিং, হোটেল বুকিং, ফুড অর্ডারের মত সেবাগুলো পেয়ে যাচ্ছেন। একদিকে তাদের সময় বেচে যাচ্ছে অন্যদিকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে যেতে হচ্ছেনা।
আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বৃদ্ধি পাবে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই শিল্পে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। দেশে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ ও প্রযুক্তি নির্ভর জনশক্তি সৃষ্টি করে পর্যটন শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে এর সুফল পাওয়া সম্ভব।